কুমিল্লায় গড়ে উঠছে সবুজ পোশাক কারখানা,: সুফল মিলছে রপ্তানিতেও

প্রথম পাতা » কৃষি ও বাণিজ্য » কুমিল্লায় গড়ে উঠছে সবুজ পোশাক কারখানা,: সুফল মিলছে রপ্তানিতেও
মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩



কুমিল্লায় গড়ে উঠছে সবুজ পোশাক কারখানা,: সুফল মিলছে রপ্তানিতেও

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মধ্যবর্তী কুমিল্লায় একের পর এক গড়ে উঠছে সবুজ পোশাক কারখানা। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে একটি। এসব কারখানায় উৎপাদিত পোশাক ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বছরে এখান থেকে পোশাক রপ্তানীর পরিমাণ প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা।
গার্মেন্টস খাতের একাধিক উদ্যোক্তা বাসসকে বলেন, গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি বাংলাদেশে বাড়ার কারণে প্রচলিত বাজার তথা ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারগুলো থেকে বাড়তি অর্ডার আসছে। এতে সার্বিকভাবে রফতানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়বের পোশাক রপ্তানীর ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতিও জোর কদমে এগিয়ে চলেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশে এখন গ্রিন ফ্যাক্টরি ১৮৬টি। এর মধ্যে প্লাটিনাম ক্যাটাগরির ৬২টি, গোল্ড ১১০টি, সিলভার ১০টি ও সার্টিফাইড চারটি। এর মধ্যে গত বছরে ৩০টি কারখানা স্বীকৃতি পায়। এর মধ্যে ১৫টি ছিল প্লাটিনাম ক্যাটাগরির। আর চলতি জানুয়ারি মাসে দুইটি প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ও একটি গোল্ড ক্যাটাগরিতে গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ৫৫০টির বেশি কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরি হতে রেজিস্ট্রেশন বা পাইপলাইনে রয়েছে।
গোল্ডেন ক্যাটাগরিতে সবুজ কারখানার স্বীকৃর্তি পাওয়া কুমিল্লার ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আয়েশা আক্তার বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে যখন পোশাকের অর্ডার কমে যাচ্ছে, তখন এ ধরনের স্বীকৃতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মনোবল বৃদ্ধি করে। এতে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রফতানি আয়ে সুবাতাস বইছে।অর্থ নৈতিক ভাবে উন্নত হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট থেকে ২০২২ সালে সাড়ে ৪ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানী করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি আমাদের মনোবল বৃদ্ধি করছে। এর প্রভাব পড়ছে ররপ্তানী আয়েও। দেশের সবুজ ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি বাড়ার কারণে আগামীতেও রপ্তানী আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
তবে খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে প্রচুর বিনিয়োগের প্রয়োজন। একটি ফ্যাক্টরি করতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এর পাশাপাশি জমিও লাগে প্রায় তিন থেকে ১০ বিঘা। তারা আরও জানান, এ পর্যন্ত দেশে যেসব কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরির খেতাব জিতে নিয়েছে, তাদের বেশির ভাগ উদ্যোক্তার বিনিয়োগই ৫০০ কোটি থেকে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ছিল। তাঁদের মতে, গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়। গুরুত্ব্পূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এর জন্য উদ্যোক্তাকে উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় শতভাগ আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রাখতে হয়।
সবুজ কারখানায় যা থাকবে : আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যে পরিমাণ জমির ওপর কারখানা হবে তার অর্ধেকটাই ছেড়ে দিতে হবে সবুজায়নের জন্য। সবুজ বাগান থাকবে। কারখানার চারপাশে খোলা জায়গা থাকবে। ভেতরেও থাকবে খোলা জায়গা। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ থাকবে সুন্দর। এক শ্রমিক থেকে অন্য শ্রমিকের দূরত্বও থাকবে বেশ। এ ছাড়া সবকিছুই হবে স্বয়ংক্রিয়। যন্ত্রপাতি হবে অত্যাধুনিক। ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হবে। থাকবে সোলার প্যানেল, এলইডি লাইট। এ ছাড়া পানি রিসাইক্লিং ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৬:৩০   ২০৩ বার পঠিত  




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

কৃষি ও বাণিজ্য’র আরও খবর


বাণিজ্য উপদেষ্টার সাথে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএসইসির ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান ডিএসই চেয়ারম্যানের
সেঞ্চুরির তালিকায় লেবু-শসা-বেগুন
মিনি কোল্ড স্টোরেজ ও খামারী অ্যাপ কৃষিতে আনবে নতুন মাত্রা : কৃষি উপদেষ্টা
জুন মাসেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ
কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে : প্রেস সচিব
রমজানের আমদানি পণ্য খালাসে ধীরগতি, দামে প্রভাব পড়ার শঙ্কা
সম্পর্ক নয়,যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিবে সরকার -উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র
সবজি নাগালে, মাছ-মাংস ও তেল-চালে স্বস্তি খুঁজছেন ভোক্তারা

News 2 Narayanganj News Archive

আর্কাইভ