
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোতে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ই-মেইল করে কর্মীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হচ্ছে। এফডিএ ও সিডিসিসহ আরও কয়েকটি সংস্থার প্রায় ১০ হাজার কর্মী চাকরি হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসার পরই বিভিন্ন দফতর থেকে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে সরকারের কয়েকটি খাতের হাজার হাজার কর্মী বাদ দেয়া হয়েছে। এবার স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক ছাঁটাই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) থেকেই মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মীরা বরখাস্তের নোটিশ পেতে শুরু করেছেন। এদিন ওয়াশিংটন ডিসির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দফতরের বাইরে কর্মীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে এই বিভাগের কতজন ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জানিয়েছেন, মার্কিন স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১০ হাজারের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের শপথ নেয়ার পরেই স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
খবরে বলা হয়েছে, রাতারাতি যাদের বরখাস্ত করার নোটিশ দেয়া হয়েছে, তাদের স্বাস্থ্য দফতরের কম্পিউটার সিস্টেম থেকে লগ আউট করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে অফিসে তাদের কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
কর্মীরা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও পারেননি। হঠাৎ কেন এই রকম হয়েছে তা প্রথমে বুঝতে পারেননি তারা। পরে তারা চাকরি ছাঁটাইয়ের কথা জানতে পারেন।
গত ২৭ মার্চ জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনেডি। আরও কিছু কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মী সংখ্যা ৮২ হাজার থেকে কমে ৬২ হাজার হতে পারে বলেও অনেকের আশঙ্কা।
ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে খাদ্য, ওষুধ ও তামাক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভাগগুলোতেও। ওই সমস্ত বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্ক গত তিন মাস ধরে মার্কিন আমলাতন্ত্রে বড় ধরনের কাটছাঁটের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ফেডারেল সরকার খুব বেশি চাপে আছে। অপচয় ও জালিয়াতির কারণে প্রচুর অর্থ নষ্ট হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩৬ লাখ কোটি ডলার ঋণ আছে এবং গত বছর ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারের ঘাটতি আছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ট্রাম্প ও মাস্কের প্রস্তাবে সায় দিয়ে আরও ৭৫ হাজার কর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এরপর গত মাসেই ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়। ফেডারেল তথা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রবীণ সেনাদের দেখভাল পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিযুক্ত কর্মীরা এ তালিকায় ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩০:৩৮ ১১ বার পঠিত